প্রাচীন বই ধ্বংস করে এআই ডেটা সেন্টার: কর্পোরেট লোভের নতুন অধ্যায় নাকি প্রযুক্তির অনিবার্য পথ?

প্রাচীন বই ধ্বংস করে এআই ডেটা সেন্টার: কর্পোরেট লোভের নতুন অধ্যায় নাকি প্রযুক্তির অনিবার্য পথ? · Avonetics
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি নিয়ে সারা বিশ্বে উন্মাদনা বাড়ছে। এর ক্ষমতা এবং সম্ভাবনার যেমন প্রশংসা করা হচ্ছে, তেমনই এর অন্ধকার দিক নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে: এআই সংস্থাগুলো নাকি বিরল এবং প্রাচীন বই কিনে সেগুলোকে ধ্বংস করে তাদের এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করছে। এই খবরটি প্রযুক্তির নৈতিকতা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এআই ডেটা সেন্টারগুলো মূলত পাইরেসি সংক্রান্ত আইনি জটিলতা এড়াতে এই পথ বেছে নিয়েছে। তারা প্রাচীন বই সংগ্রহ করে সেগুলোর বাঁধাই কেটে একটি বিশেষ মেশিন দিয়ে স্ক্যান করছে, তারপর বাকি অংশগুলো ধ্বংস করে ফেলছে। এই প্রক্রিয়ার সমর্থকরা এটিকে 'ফেয়ার ইউজ' বা ন্যায্য ব্যবহার হিসেবে দাবি করতে পারেন, যুক্তি হিসেবে তারা বলেন যে, বইটির শুধুমাত্র একটি ডিজিটাল কপি থাকছে এবং মূল বইটির শারীরিক অস্তিত্ব থাকছে না।
Read nextভোর ৫:৪৮-এর সেই অনাকাঙ্ক্ষিত মেসেজ: সাধারণ আড্ডা কীভাবে বদলে গেল চরম সামাজিক দুঃস্বপ্নে?
তবে এই ঘটনা নিয়ে অনেকেই শঙ্কিত। তাদের মতে, এটি শুধু এআই প্রশিক্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। একবার এই ঐতিহাসিক ও বিরল পাঠ্যগুলো ডিজিটাল ফরম্যাটে চলে এলে, এআই সংস্থাগুলো সেগুলোকে নিজেদের সুবিধামতো পরিবর্তন বা বিকৃত করতে পারে। এতে ইতিহাস বিকৃতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, যা মানবজাতির সাংস্কৃতিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের জন্য এক বিশাল হুমকি। একজন মন্তব্যকারী বলেছেন, "তারা যদি ঐতিহাসিক পাঠ্য পরিবর্তন করতে পারে, তাহলে আক্ষরিক অর্থেই সবকিছু পরিবর্তন করতে পারে।"
ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া:
এই খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এআই সংস্থাগুলোর এই কাজকে 'জঘন্য' এবং 'স্বৈরাচারী' বলে অভিহিত করেছেন। একজন লিখেছেন, "বইয়ের বাঁধাই কাটার ভিডিওগুলো দেখে আমার সত্যিই অসুস্থ লাগছে, এই জরাজীর্ণ মোটা বইগুলো এআই-এর মতো ক্ষতিকারক এবং বোকা কিছুর জন্য ধ্বংস হতে দেখাটা মেনে নেওয়া কঠিন।"
আরেকজন প্রশ্ন তুলেছেন, "এআই সংস্থাগুলো কখন থামবে? তাদের জন্য কখন যথেষ্ট হবে? মনে হচ্ছে তাদের কাছে এই পৃথিবীতে সব ভালো জিনিসের একটি তালিকা আছে এবং তারা একের পর এক সেগুলো ধ্বংস করে চলেছে।"
কেউ কেউ মনে করেন, এই কার্যকলাপ কর্পোরেট লোভের একটি চরম উদাহরণ, যেখানে মুনাফা অর্জনের জন্য নৈতিকতা এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে। একজন মন্তব্যকারী উল্লেখ করেছেন, "এআই মানবজাতির উপকারের জন্য তৈরি হয়নি। এটি শুরু থেকেই লাভের জন্য তৈরি হয়েছে, এবং সেই উদ্দেশ্যকে কখনো বিশ্বাস করা যায় না।"
অন্যদিক থেকে যুক্তি:
Your brand, right here.Reach story-obsessed listeners in 45+ languages → advertise on Avoneticsতবে এই অভিযোগের অন্য একটি দিকও রয়েছে। কিছু লোক যুক্তি দিয়েছেন যে, এই গল্পটি অতিরঞ্জিত এবং ভিত্তিহীন। তাদের মতে, এআই সংস্থাগুলো 'বিরল' বা 'প্রাচীন' বই নয়, বরং পুরোনো, অব্যবহৃত এবং অপ্রয়োজনীয় নির্দেশিকা ম্যানুয়াল বা এমন বইগুলো স্ক্যান করছে যা দশক ধরে কেউ দেখেনি।
একজন যুক্তি দিয়েছেন, "এআই সম্পর্কে ইন্টারনেটে যা কিছু পড়েন তার ৯০% বাড়িয়ে বলা হয়... তারা 'বিরল বই' কিনছে না, তারা কিনছে পুরোনো অপ্রচলিত নির্দেশিকা ম্যানুয়াল এবং অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় জিনিস যা কেউ চায় না।"
এই মতামতের সমর্থকরা আরও বলেন যে, অনেক লাইব্রেরি এমনিতেই বিশাল সংখ্যক পুরোনো বই ফেলে দিচ্ছে কারণ সেগুলোকে সংরক্ষণ করা ব্যয়বহুল এবং কেউ সেগুলো পড়ে না। এক্ষেত্রে, ডিজিটাল স্ক্যানিং সেইসব বইয়ের মূল্যবান তথ্যকে সংরক্ষণ করার একটি উপায় হতে পারে, যা অন্যথায় চিরতরে হারিয়ে যেত। একজন মন্তব্যকারী লিখেছেন, "বই সংরক্ষণে যে স্থান এবং শক্তি লাগে, তা বিশাল। বইগুলোকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, অগ্নিনির্বাপক আর্কাইভগুলিতে রাখতে হয়। এটি ব্যয়বহুল।"
বিতর্ক এবং ভবিষ্যৎ:
এই বিতর্কটি কেবল বই স্ক্যানিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি প্রযুক্তি, নৈতিকতা, কর্পোরেট দায়িত্ব এবং সাংস্কৃতিক সংরক্ষণের বৃহত্তর প্রশ্নগুলোকে সামনে নিয়ে আসে। এআই-এর ক্ষমতা বাড়ার সাথে সাথে এর ব্যবহার নিয়ে আরও কঠোর নিয়মকানুন এবং স্বচ্ছতা প্রয়োজন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এই রোমহর্ষক গল্পের গভীরে গিয়ে আমাদের হোস্টরা 'অগোচরে' পডকাস্টে আরও বিস্তারিত আলোচনা করবেন, যেখানে তারা এই বিতর্কের দুই দিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলবেন।