প্রাক্তনের নতুন সন্তান ও শাশুড়ির জবরদস্তি! দাম্পত্য বাঁচাতে গৃহবধূর আকুল লড়াই

প্রাক্তনের নতুন সন্তান ও শাশুড়ির জবরদস্তি! দাম্পত্য বাঁচাতে গৃহবধূর আকুল লড়াই · Avonetics
সংসারের জটিলতা এমনিতেই মানুষকে ক্লান্ত করে তোলে, আর সেই সংসার যদি হয় প্রাক্তনের ছায়ায় ঘেরা, তবে তা প্রতিদিনের মানসিক যন্ত্রণায় পরিণত হয়। সম্প্রতি এক নারী তাঁর দাম্পত্য জীবনের এক অদ্ভুত ও নাট্যময় সংকট তুলে ধরেছেন, যা শুনে তাজ্জব বনে গেছেন অনেকেই।
গল্পের সূত্রপাত তাঁর স্বামীর প্রাক্তন স্ত্রীকে কেন্দ্র করে। বিচ্ছেদের তিন বছর পর ওই প্রাক্তন নারী অন্য এক পুরুষের সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই সন্তানের সমস্ত অভিভাবকত্ব ও দেখভালের দায়িত্ব তিনি গোপনে চাপিয়ে দিয়েছিলেন এই নারীর স্বামীর ওপর! বাজার করে দেওয়া, স্কুলে পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে প্রয়োজনে কয়েকদিন নিজের কাছে রাখা—সবই চলছিল নিয়মিত। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্ত্রী তাঁর স্বামীকে বুঝিয়ে বললে, স্বামী নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং সীমানা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দেন।
Read next‘৯ বছরের ছেলের মতো শরীর!’: ১৬ বছরের মেয়েকে জোর করে হরমোন ইনজেকশন দিতে গিয়ে ডাক্তারের তোপের মুখে বিষাক্ত মা
কিন্তু আসল নাটক তৈরি হয় যখন প্রাক্তন নারী দুই সপ্তাহের জন্য বিদেশে ঘুরতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সেই ছোট মেয়েটিকে দুই সপ্তাহের জন্য এই দম্পতির কাছে রেখে যাওয়ার প্রস্তাব দেন, কারণ মেয়েটিকে নাকি স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার কেউ নেই! স্বামী স্পষ্ট ভাষায় এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। কিন্তু প্রাক্তন নারী দমে যাওয়ার পাত্রী নন; তিনি সোজা ফোন করেন তাঁর প্রাক্তন শাশুড়িকে (বর্তমান দম্পতির শাশুড়ি)।
সীমানাবোধহীন শাশুড়ি সানন্দে সেই বাচ্চার দায়িত্ব নিতে রাজি হয়ে যান। তবে আসল টুইস্ট হলো—শাশুড়ি গাড়ি চালাতে পারেন না, ইংরেজি বলতে পারেন না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা নেওয়ার দক্ষতা তাঁর নেই। তার ওপর তিনি শর্ত দিয়েছেন, তিনি দম্পতির বাড়িতে থেকেই দুই সপ্তাহ বাচ্চাটিকে দেখাশোনা করবেন! এর ফলে পরোক্ষভাবে সমস্ত ঝামেলা ও দায়িত্ব আবার এসে পড়ে ওই দম্পতির ওপরই।
Your brand, right here.Reach story-obsessed listeners in 45+ languages → advertise on Avoneticsএই ঘটনা নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এক মন্তব্যকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "স্বামীর উচিত এখনই শক্ত হওয়া। নিজের বাড়িতে শাশুড়ির এমন অনধিকার চর্চা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।" অন্য এক মন্তব্যকারী আবার স্বামীর অতীত ভূমিকার সমালোচনা করে লেখেন, "সমস্যার মূলে এই স্বামী নিজে। তিনিই আগে অন্য বাচ্চার বাবার অভিনয় করে ভুল বার্তা দিয়েছেন, যার মাশুল এখন স্ত্রীকে গুনতে হচ্ছে।"
অনেক সচেতন মানুষ পরামর্শ দিয়েছেন, শাশুড়ি যদি সাহায্য করতেই চান, তবে তিনি নিজের বাড়িতে গিয়ে করুন। নিজেদের বাড়ির দোরগোড়ায় শক্ত সীমানা না টানলে এই সংসার কোনোদিনই শান্ত হতে পারবে না।
কীভাবে এই জটিল মানসিক খেলা ও পারিবারিক চাপ থেকে নিজেদের রক্ষা করবেন এই দম্পতি? শাশুড়ি ও প্রাক্তনের এই সম্মিলিত আক্রমণ সামলাতে স্বামী শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবেন? 'অভিভাবকনামা' পডকাস্টের সাম্প্রতিক পর্বে এই গল্পের পেছনের গভীর মনস্তাত্ত্বিক দিক ও সমাধান নিয়ে বিস্তারিত বিতর্ক করেছেন আমাদের সঞ্চালকরা।