‘৯ বছরের ছেলের মতো শরীর!’: ১৬ বছরের মেয়েকে জোর করে হরমোন ইনজেকশন দিতে গিয়ে ডাক্তারের তোপের মুখে বিষাক্ত মা

‘৯ বছরের ছেলের মতো শরীর!’: ১৬ বছরের মেয়েকে জোর করে হরমোন ইনজেকশন দিতে গিয়ে ডাক্তারের তোপের মুখে বিষাক্ত মা · Avonetics
বয়ঃসন্ধিকাল প্রতিটি মানুষের জীবনের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। কিন্তু এই সময়ে যদি পরিবারের সবচেয়ে কাছের মানুষটিই মানসিকভাবে ভেঙে চুরমার করে দিতে চায়, তবে সেই ক্ষত আজীবন থেকে যায়। এমনই এক ভয়াবহ ও নির্মম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন এক তরুণী, যার বয়স যখন ১৫ বছর, তখন তার শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি অন্যদের চেয়ে কিছুটা ধীরগতির ছিল। সমবয়সীদের মতো শারীরিক রূপ না আসায় তার ওপর নেমে এসেছিল নিজ মায়ের নির্মম মানসিক অত্যাচার।
তরুণী জানান, তার যখন ১৫ বছর বয়স, তখন পিরিয়ড শুরু না হওয়া কিংবা শারীরিক গঠন পরিবর্তন না হওয়া নিয়ে তার নিজের কোনো আফসোস ছিল না। কিন্তু তার মায়ের কাছে এটি ছিল এক চরম অপমানের বিষয়। মা প্রায় প্রতিদিনই তার শারীরিক গঠন নিয়ে নির্মম বিদ্রূপ করতেন। পরিচিতদের সামনে বা বাড়িতে সব সময় বলতেন, ‘ওর শরীরে কোনো মেয়েদের বৈশিষ্ট্য নেই, দেখতে একদম ৯ বছরের ছেলের মতো।’ কখনো বা বলতেন, ‘মেয়েটা যেন একদম শুকনা কাঠি!’ এই সব মন্তব্য কিশোরীটির মনে প্রতিনিয়ত গভীর ক্ষত তৈরি করত।
Read nextসৎমেয়ের ড্রেসারে স্বামীর প্রথম বিয়ের রোমান্টিক ছবি! দেখে স্তব্ধ সৎমা, শুরু পারিবারিক বিতর্ক
একপর্যায়ে মা তাকে জোর করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। এমনকি ডাক্তারের চেম্বারে এবং নার্সের সামনেও মায়ের এই অমানবিক মন্তব্য থামেনি। চিকিৎসক যখন কিশোরীর শারীরিক পরিস্থিতি পরীক্ষা করছিলেন, তখন পরীক্ষামূলকভাবে হরমোন থেরাপির কথা উল্লেখ করা মাত্রই মা অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তিনি ডাক্তারকে প্রায় নির্দেশ দেওয়ার ভঙ্গিতে বলেন, মেয়েকে এখনই হরমোন ইনজেকশন দিতে, কারণ তিনি তার মেয়ের এই ‘বাচ্চার মতো’ শরীর দেখতে দেখতে ক্লান্ত।
তবে এই অন্যায্য দাবির সামনে মাথা নোয়াননি সেই কিশোরী। চিকিৎসকের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তিনি কোনো কৃত্রিম হরমোন থেরাপি নেবেন না। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকও নিশ্চিত করেন যে কিশোরীর শরীরে কোনো রোগ নেই, শুধুমাত্র বয়ঃসন্ধি কিছুটা দেরিতে শুরু হচ্ছে এবং এটিকে প্রাকৃতিকভাবেই হতে দেওয়া উচিত। চিকিৎসকের এই সিদ্ধান্ত শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মা। বাসায় ফেরার পথে পুরোটা সময় তিনি মেয়েকে ‘অবাধ্য’ এবং ‘বিদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে অভিশাপ দিতে থাকেন এবং টানা এক সপ্তাহ মেয়ের সাথে কথা বলা বন্ধ রাখেন।
Your brand, right here.Reach story-obsessed listeners in 45+ languages → advertise on Avoneticsএই ঘটনাটি কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। অধিকাংশ সমাজচিন্তক ও সচেতন মানুষ মায়ের এই আচরণকে ‘বিষাক্ত অভিভাবকত্ব’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, ‘অনেক অভিভাবক নিজেদের সামাজিক অহংকার বা মানসিক অসুস্থতা মেটাতে সন্তানদের শরীরকে নিজেদের সম্পত্তি মনে করেন। ডাক্তারের সঠিক সিদ্ধান্ত মেয়েটিকে একটি বড় বিপদের হাত থেকে বাঁচিয়েছে।’ অপর এক পর্যবেক্ষক বলেন, ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানকে কখনো কখনো অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র বানিয়ে ফেলেন, যা এক ধরণের মানসিক নির্যাতন।’
অন্যদিকে, পারিবারিক মনস্তত্ত্বের কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, অনেক সময় সমাজে চলা ভুল ধারণা ও অভিভাবকদের অতিরিক্ত শারীরিক দুশ্চিন্তা তাদের অন্ধ করে তোলে। তবে কারণ যা-ই হোক না কেন, সন্তানের অনিচ্ছায় তাদের শরীরের ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া যে চরম অপরাধ, সে বিষয়ে সবাই একমত।
সন্তানের শারীরিক স্বাধিকার এবং অভিভাবকত্বের সীমানা কোথায় হওয়া উচিত? এই বিষাক্ত মানসিকতা কীভাবে একটি সন্তানের মানসিক গঠন নষ্ট করে দেয়, তা নিয়েই আমাদের পডকাস্ট ‘অভিভাবকনামা’-র আজকের বিশেষ পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন পডকাস্টের সঞ্চালকেরা।