আপনার এআই কি আপনার গোপন কথা জানে? চ্যাটজিপিটি-কে 'বিষাক্ত' তথ্য খাইয়ে বিভ্রান্ত করার নতুন যুদ্ধ!

আপনার এআই কি আপনার গোপন কথা জানে? চ্যাটজিপিটি-কে 'বিষাক্ত' তথ্য খাইয়ে বিভ্রান্ত করার নতুন যুদ্ধ! · Avonetics
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার বর্তমান ডিজিটাল দুনিয়ায় এক অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটিয়েছে। কিন্তু এই সুবিধার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভীতিকর বাস্তবতা। চ্যাটজিপিটি বা অন্যান্য এআই চ্যাটবক্সের সাথে আমরা প্রতিনিয়ত যে কথাগুলো বলি, যে ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান খুঁজি, তা জমা থাকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশালাকার ডাটা সার্ভারে। সম্প্রতি ইন্টারনেট দুনিয়ায় এক ব্যবহারকারীর স্বীকারোক্তি নিয়ে তোপাড় শুরু হয়েছে, যিনি ভুলবশত নিজের জীবনের প্রায় সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য এআই-কে দেওয়ার পর এখন অনুশোচনায় ভুগছেন এবং এআই-কে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত বা 'পয়জন' করার পথ খুঁজছেন।
গল্পটি কেবল একজন ব্যক্তির নয়, এটি আজকের ডিজিটাল যুগে বাস করা কোটি কোটি মানুষের অঘোষিত আতঙ্ক। যখন কোনো ব্যবহারকারী বুঝতে পারেন যে তাঁর সমস্ত চিন্তা, মানসিক অবস্থা এবং কাজের কৌশল একটি এআই মডেলের ট্র্যাকিং মেমোরিতে বন্দি হয়ে গেছে, তখন তিনি সেখান থেকে মুক্তি পেতে চান। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, গুগল বা ওপেনএআই-এর মতো টেক জায়ান্টদের ডাটাবেস থেকে কি আদৌ কোনো তথ্য চিরতরে মুছে ফেলা সম্ভব? নাকি সেটিংস থেকে 'ক্লিয়ার হিস্ট্রি' চাপ দেওয়া কেবল এক প্রকার মানসিক শান্তি ছাড়া আর কিছুই নয়?
Read nextএইচপি’র ‘ইন্সট্যান্ট ইঙ্ক’ কেলেঙ্কারি: সাবস্ক্রিপশন বাতিল, প্রিন্টার অচল! গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ!
এই ঘটনার পর নেটিজেনরা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। একদল গবেষক ও ব্যবহারকারী প্রস্তাব করছেন 'ডাটা পয়জনিং' বা তথ্য বিষাক্তকরণের। এই পদ্ধতির মূল কথা হলো, এআই-কে ভুল, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যে ভরিয়ে দেওয়া। উদাহরণস্বরূপ, কোনো লোকাল বা অফলাইন এআই মডেল ব্যবহার করে হাজার হাজার কাল্পনিক গল্প ও অসত্য ব্যক্তিগত তথ্য তৈরি করে তা মূল এআই-এর কাছে বারবার পাঠানো। এর ফলে এআই-এর মেমোরিতে সত্য ও মিথ্যার সীমানা অস্পষ্ট হয়ে যাবে এবং ব্যবহারকারীর আসল পরিচয় সুরক্ষার আড়ালে চলে যাবে। একজন মন্তব্যকারী বলেন, অনলাইনে নিজের তথ্য সুরক্ষিত রাখার সহজ নিয়ম হলো সবসময় অন্তত অর্ধেকের বেশি মিথ্যা কথা বলা, যাতে অ্যালগরিদম আপনার আসল পরিচয় ধরতে না পারে।
তবে এই কৌশলের বিরুদ্ধেও তৈরি হয়েছে প্রবল বিতর্ক। আধুনিক এআই এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এআই-কে বোকা বানানো এত সহজ নয়। বর্তমানে প্রধান এআই কোম্পানিগুলো তাদের তৈরি করা লেখার মধ্যে এক ধরণের বিশেষ ডিজিটাল 'ওয়াটারমার্ক' ব্যবহার করে। ফলে আপনি যদি অন্য কোনো এআই দিয়ে ভুয়া ডাটা বানিয়ে চ্যাটজিপিটি-কে খাওয়াতে যান, সিস্টেম তা সহজেই চিনে ফেলবে। এছাড়া, মানুষের টাইপিং প্যাটার্ন, যোগাযোগের সময় এবং ভাষার ব্যবহারের বিশেষ ধরণ বিশ্লেষণ করে এআই এমনিতেই আসল মানুষকে চিনে নেয়। জনৈক বিশেষজ্ঞের মতে, হাজার হাজার মিথ্যা তথ্যের মধ্যেও এআই আপনার আসল অভ্যাসটুকু ধরে ফেলবে, তাই ডাটা পয়জনিং মূলত সময়ের অপচয়।
Your brand, right here.Reach story-obsessed listeners in 45+ languages → advertise on Avoneticsইন্টারনেটের নিষ্ঠুর সত্য হলো, কোনো তথ্য একবার এর সার্ভারে প্রবেশ করলে তা চিরদিনের জন্য ডিজিটাল ছাপ রেখে যায়। প্রযুক্তি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না হয়ে কীভাবে এআই-এর এই নজরদারি থেকে বাঁচা সম্ভব, তা নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। ডাটা পয়জনিং কি আস আসলেই সাধারণ মানুষের জন্য একটি কার্যকর ঢাল হতে পারে, নাকি এটি কেবলই এক অলৌকিক আশা?
পোডকাস্টের দুই সঞ্চালক 'টেক টকস'-এর আজকের পর্বে এই নাটকীয় লড়াই এবং এআই প্রাইভেসির গভীর সত্য উন্মোচন করেছেন।