"হাসপাতাল নাকি চাকরি—কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?" অসুস্থ ১৩ মাসের সন্তানকে ডে-কেয়ার থেকে আনায় বাবার চাকরি নিয়ে টানাটানি!

ডে-কেয়ারে যাওয়া ১৩ মাসের অসুস্থ মেয়েকে জরুরি প্রয়োজনে বাড়ি নিয়ে আসায় বসের তোপের মুখে পড়েছেন এক রিমোট ব্যাংকার বাবা।
Bengali

"হাসপাতাল নাকি চাকরি—কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?" অসুস্থ ১৩ মাসের সন্তানকে ডে-কেয়ার থেকে আনায় বাবার চাকরি নিয়ে টানাটানি! · Avonetics

🎧 Listen to this episode
Closes with the original song “দূরত্বের ওপারে”. · Plays on Spotify · Open on Spotify ↗
Sponsored
Volicci custom graphic tees, hoodies & die-cut stickers, a fresh original design every day. Learn more →

আজকের করপোরেট জগতে 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' বা দূরবর্তী কাজের সুবিধা পেলেও পরিবার ও চাকরির ভারসাম্য রক্ষা করা কতটা কঠিন, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এক বাবার করুণ অভিজ্ঞতায়। পাঁচ বছর ধরে একটি প্রথম সারির ব্যাংকে সফলতার সঙ্গে কাজ করে আসা এই পিতা সম্প্রতি এক চরম পারিবারিক ও পেশাগত সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। স্ত্রীর চিকিৎসা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ 'মেডিকেল রেসিডেন্সি'র জন্য পরিবার নিয়ে অন্য শহরে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। নতুন পরিবেশে তাদের ১৩ মাসের শিশু কন্যাকে ফুল-টাইম ডে-কেয়ারে ভর্তি করানো হয়।

কিন্তু ডে-কেয়ার শুরু হতেই বিপত্তি। মাত্র তিন দিনের মাথায় শিশুটি 'হ্যান্ড, ফুট অ্যান্ড মাউথ' রোগে আক্রান্ত হয়। এরপর থেকে প্রতিনিয়ত কান পচা ইনফেকশন ও তীব্র জ্বরে ভুগতে থাকে ছোট্ট মেয়েটি। যেহেতু স্ত্রীর হাসপাতালে জরুরি দায়িত্ব পালন করতে হয়, তাই স্বভাবতই বাবা হিসেবে তিনি মেয়ের অসুস্থতার দিনগুলোতে কাজ থেকে কিছুটা আগে বের হয়ে তাকে নিয়ে আসতেন। প্রতিবারই বসকে জানিয়ে, ক্যালেন্ডারে ছুটি জমা দিয়ে এবং রাতে অতিরিক্ত কাজ করে দিনের বকেয়া দায়িত্ব শেষ করতেন এই বাবা।

Read nextসিম কার্ডে বাধ্যতামূলক সরকারি আইডি: ডিজিটাল নজরদারি নাকি সুরক্ষার নতুন জাল?

ঘটনার আকস্মিক মোড় ঘোরে অর্ধবার্ষিক কর্মক্ষমতা পর্যালোচনা সেশনে। বস তাকে সরাসরি জানিয়ে দেন, ২৪ ঘণ্টার আগাম নোটিশ ছাড়া ডে-কেয়ার থেকে সন্তানকে আনতে যাওয়া 'অননুমোদিত অনুপস্থিতি' হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। বসের দাবি অনুযায়ী, তিনি নাকি ইতিমধ্যেই বরখাস্ত হওয়ার সীমা পার করে ফেলেছেন! আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, বস মন্তব্য করেন—"পরিবারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে স্ত্রীর হাসপাতাল বেশি গুরুত্বপূর্ণ নাকি ব্যাংকের চাকরি।"

এই ঘটনা জানাজানি হতেই সামাজিক মাধ্যমে ও অভিভাবক সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একজন পর্যবেক্ষক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সন্তান অসুস্থ হওয়ার খবর কি কোনো মানুষ ২৪ ঘণ্টা আগে থেকে জানে? এটি স্পষ্টতই কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত (building a case)।" অন্য এক অভিজ্ঞ কর্মী মন্তব্য করেন, "করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো মুখে পরিবার-বান্ধব হওয়ার দাবি করলেও বাস্তবে তারা অত্যন্ত নিষ্ঠুর।"

Your brand, right here.Reach story-obsessed listeners in 45+ languages → advertise on Avonetics

তবে ভিন্ন মতামতও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, যেহেতু উক্ত ব্যাংকার আগামী বছরেই চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি গৃহস্থালী ও সন্তানের দায়িত্ব নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাই এই মুহূর্তে নতুন চাকরি খোঁজার মানসিক চাপ নেওয়া ঠিক হবে না। তাছাড়া পরিবারে সঙ্গে থাকা শ্যালিকার সাহায্য নিয়ে এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়টি পার করে দেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে।

অসুস্থ শিশু আর বসের আল্টিমেটামের মাঝে পড়ে এক বাবার এই করুণ গল্প কেবল একজনের নয়, বরং আধুনিক করপোরেট বিশ্বের হাজারো অভিভাবকের প্রতিদিনের বাস্তবতা। কীভাবে এই বাবা নিজের আত্মসম্মান ও পরিবার রক্ষা করবেন, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন আমাদের পডকাস্টের হোস্টরা।

0:00
0:00
Link copied ✓