আরব নেকলেস পরতেই চাকরি গেল! জাতিগত বিদ্বেষের শিকার তরুণী

নিজের আরব পরিচয় প্রকাশ করার পরপরই দুটি কাজ হারালেন এক তরুণী। তবে কি তাঁর ঐতিহ্যই তাঁর শত্রু হয়ে দাঁড়ালো?
Bengali

আরব নেকলেস পরতেই চাকরি গেল! জাতিগত বিদ্বেষের শিকার তরুণী · Avonetics

🎧 Listen to this episode
Closes with the original song “দূরত্বের ওপারে”. · Plays on Spotify · Open on Spotify ↗
Sponsored
Volicci custom graphic tees, hoodies & die-cut stickers, a fresh original design every day. Learn more →

এক তরুণী তাঁর আরব পরিচয়ের কারণে পরপর দুটি কাজ হারানোর এক চাঞ্চল্যকর কাহিনি প্রকাশ্যে এনেছেন। কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই তাঁকে বরখাস্ত করা হয়, যার ফলে তিনি সন্দেহ করছেন যে তাঁর জাতিগত উত্তরাধিকারই এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার কারণ।

তরুণীটি দুটি পার্ট-টাইম কাজ করতেন। প্রথমটি ছিল তাঁর আয়ের প্রধান উৎস। সেখান থেকে তাঁকে হঠাৎ করেই বরখাস্ত করা হয়। কর্তৃপক্ষ যে কারণগুলো দেখিয়েছিল, তা ছিল স্পষ্টতই মিথ্যা, এমনকি একটি চ্যাট জিপিটির বার্তা দিয়েও তাঁকে জানানো হয়েছিল। তিনি হতবাক হয়ে যান। তিনি অভিযোগ করেন, কাজের সময়ে তাঁকে ব্রেক দেওয়া হতো না এবং বসদের কুকুর দেখাশোনা করতে বলা হতো।

Read nextসাক্ষাৎকারের মাঝখানে 'স্প্রাইট বোমা' বিস্ফোরণ: চাকরি কি জুটবে এই প্রার্থীর কপালে?

প্রথম কাজ হারানোর এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে, তিনি দ্বিতীয় কাজটিও হারান। এবারও কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ জানায়নি এবং তাঁর প্রশ্নগুলো এড়িয়ে গিয়েছিল।

এই দুটি ঘটনার পর তিনি যখন বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছিলেন, তখন তাঁর মনে পড়ে যায় যে প্রথম চাকরি হারানোর কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি তাঁর নাম লেখা একটি আরবী নেকলেস পরা শুরু করেছিলেন। তাঁর মা আরব হলেও, তাঁকে দেখে মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ মনে হতো না। নেকলেসটি পরার পর থেকেই তিনি চারপাশে মন্তব্য পেতে শুরু করেন। পরিচিত-অপরিচিত অনেকেই তাঁর সাথে আরবী পরিচয় নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। তিনি গর্বের সাথে নিজের পরিচয় দিতেন।

তরুণীটি উল্লেখ করেছেন যে, দুটি কাজই এমন এলাকায় ছিল যেখানে ইসরায়েলি এবং ইহুদি বাসিন্দাদের সংখ্যা অনেক বেশি। তিনি বলেন, নেকলেসটি পরার সময় তিনি ভাবেননি যে এটি কোনো সমস্যা তৈরি করতে পারে। কিন্তু দুটি বরখাস্তের ঘটনাই তাঁর জাতিগত পরিচয় প্রকাশ্যে আসার পরপরই ঘটেছিল। তাঁর জায়গায় শ্বেতাঙ্গ মহিলাদের নিয়োগ করা হয়।

তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, তাঁকে কখনো তাঁর কাজের মান নিয়ে কোনো সমালোচনা করা হয়নি, বা কোনো ভুল করার কথা বলা হয়নি। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন যে মাঝে মাঝে তাঁর দেরিতে পৌঁছানো হতো, কিন্তু সেটাকে কখনোই বরখাস্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।

নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পর, অনেকেই তাঁর প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, "দুঃখিত যে আপনার সাথে এমনটা ঘটেছে... এই অর্থনীতিতে চাকরি হারানো কঠিন, কারণ যাই হোক না কেন। আমার সাথেও একই রকম কিছু ঘটেছিল যখন আমার বস জানতে পারেন যে আমি ফিলিস্তিনি। এরপর তিনি ৭ মাস আমার সাথে কথা বলেননি, একটা প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করেছিলেন এবং আমাকে কাজ ছাড়াতে চাইছিলেন। ভুলভাবে বরখাস্ত হওয়ার পর আমি সফলভাবে কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেছিলাম।" এই মন্তব্যটি জাতিগত বৈষম্যের শিকার হওয়ার একটি সরাসরি প্রমাণ তুলে ধরে।

Your brand, right here.Reach story-obsessed listeners in 45+ languages → advertise on Avonetics

অন্য একজন বলেছেন, "আমেরিকায় আমাদের আরবদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ প্রাতিষ্ঠানিক। একজন আইনজীবীর সাহায্য নিন এবং নিজেকে রক্ষা করুন। আপনি পাগল নন এবং আপনার অভিযোগ বৈধ।" এই ধরনের মন্তব্যগুলো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেয় এবং সিস্টেমিক বর্ণবাদের দিকে ইঙ্গিত করে।

তবে, ভিন্ন মতও এসেছে। একজন পাঠক লিখেছেন, "আমি সত্যিই কোনো সরাসরি প্রমাণ দেখছি না যে আপনার জাতিসত্তার সাথে আপনার বরখাস্ত হওয়ার কোনো সম্পর্ক ছিল। আমি বুঝি এটা কঠিন, বিশেষ করে যখন কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয় না, কিন্তু আমেরিকা 'ইচ্ছামাফিক কর্মসংস্থান' নীতিতে চলে। আপনাকে কারণ ছাড়াই বরখাস্ত করা যেতে পারে। আমার পরামর্শ হবে এগিয়ে যান এবং নতুন চাকরি খুঁজুন।" এই মন্তব্যটি প্রত্যক্ষ প্রমাণের অভাব এবং মার্কিন কর্মসংস্থান আইনের দিকে ইঙ্গিত করে।

ঘটনাটি কর্মক্ষেত্রে জাতিগত বৈষম্য এবং এর মোকাবিলা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। এই তরুণীর গল্পটি কর্মক্ষেত্রে জাতিগত পরিচয়ের কারণে অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

আমাদের শো 'অগোচরে'-এর হোস্টরা এই ঘটনা নিয়ে আরও গভীরে আলোচনা করবেন, শুনুন তাঁদের বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত।

0:00
0:00
Link copied ✓