ধর্মনিরপেক্ষতার কোলাহলে এক তরুণীর কান্না: প্রযুক্তির যুগেও কেন ঈশ্বরের দুয়ারে ব্যাকুল প্রার্থনা?

ধর্মনিরপেক্ষতার কোলাহলে এক তরুণীর কান্না: প্রযুক্তির যুগেও কেন ঈশ্বরের দুয়ারে ব্যাকুল প্রার্থনা? · Avonetics
আজকের পৃথিবী দাবি করে বিজ্ঞানের কাছে সব সমাধান আছে। আঙুলের এক স্পর্শে আস্ত বিশ্ব হাতের মুঠোয়। অথচ এই চরম উৎকর্ষের যুগে দাঁড়িয়েও কিছু মানুষ ভেতরে ভেতরে অদ্ভুত এক নিঃসঙ্গতা অনুভব করছেন। সমাজ যত ব্যক্তিকেন্দ্রিক হচ্ছে, মানুষ ততই যেন আধ্যাত্মিক শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। চারপাশের নৈতিক অবক্ষয় দেখে বহু মানুষের মনে আজ এক তীব্র হাহাকার জন্ম নিচ্ছে। এই আত্মকেন্দ্রিক সমাজের বিপরীতে এক ভিন্ন ছবি দেখা গেল এক বাইশ বছর বয়সী তরুণীর জীবনে। তাঁর স্বপ্ন একজন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ হওয়া। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর আসন্ন কঠিন ভর্তি পরীক্ষা। বিশেষ করে গণিত আর বিজ্ঞানের জটিল সমীকরণ তাঁকে ভয়ে দিশেহারা করে তুলেছে। তিনি প্রায় দেড় বছর ধরে নিয়মিত অধ্যবসায়ের পাশাপাশি প্রতি সন্ধ্যায় জপমালা প্রার্থনা করছেন। সন্তদের মধ্যস্থতা কামনা করে তিনি চোখের জল ফেলছেন। বাইরের বিশ্ব যখন বলে আত্মবিশ্বাসই শেষ কথা, এই তরুণী তখন বলছেন ঈশ্বরের অনুগ্রহ ছাড়া তিনি একা কিছুই নন। তাঁর এই আকুল প্রার্থনা দেখে বহু মানুষ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন। সমাজে প্রচলিত ধারণার মুখে এটি যেন এক অনন্য জবাব। এই বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এক মন্তব্যকারী বললেন, প্রযুক্তির দাপটে মানুষ আজ নিজেকেই নিজের ঈশ্বর বানিয়ে বসেছে, যার ফলে সমাজে আত্মত্যাগ ও সহমর্মিতা হারিয়ে যাচ্ছে। অন্য একজন মন্তব্যকারী যুক্তি দিলেন, বাহ্যিক অবক্ষয় নিয়ে শঙ্কিত না হয়ে বরং আমাদের ব্যক্তিগত প্রার্থনা ও সৎকাজের মাধ্যমে আলো ছড়ানো উচিত। ঈশ্বর যাকে যে পরিস্থিতিতে রেখেছেন, সেখান থেকেই ভালো কাজ করে যাওয়াই প্রকৃত সমাধান। বিজ্ঞানের অহংকার যেখানে শেষ হয়, বিশ্বাসের শক্তি ঠিক সেখান থেকেই শুরু হয়। এই টানাপোড়েন নিয়ে আমাদের সঞ্চালকরা বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন পডকাস্টের বিশেষ পর্বে।