‘আমি কেন মেয়ে হয়ে জন্ম নিলাম না!’: নিজের নাটকে নারী সেজে ১৮ বছরের তরুণের রুদ্ধশ্বাস আত্মস্বীকারোক্তি

‘আমি কেন মেয়ে হয়ে জন্ম নিলাম না!’: নিজের নাটকে নারী সেজে ১৮ বছরের তরুণের রুদ্ধশ্বাস আত্মস্বীকারোক্তি · Avonetics
Skullcandy Crusher ANC 2 Noise Cancelling
PATENTED MULTI-SENSORY CRUSHER BASS TECHNOLOGY. Featuring two full-range 40mm audio drivers plus additional dual bass drivers, your music and movies will come alive with a sound ex…
See it →
আঠারো বছর বয়সের একটি তরুণের কাছে জীবন যেখানে নতুন সম্ভাবনায় ডানা মেলার কথা, সেখানে তাঁর প্রতিটি রাত কাটছে এক দুঃসহ আত্মযন্ত্রণায়। বাইরে থেকে দেখলে তিনি পুরোপুরি একজন পুরুষ, কিন্তু মনের গভীরতম স্তরে তাঁর একমাত্র প্রার্থনা—তিনি কেন একজন নারী হয়ে জন্মালেন না?
সম্প্রতি এক অনলাইন পরিসরে নিজের জীবনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত এবং গোপন সত্যটি অকপটে তুলে ধরেছেন এই তরুণ। তাঁর ভাষায়, বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই অনুভূতি যেন এক গভীর ক্ষতে রূপ নিয়েছে। তিনি কোনোভাবেই নিজের পুরুষ পরিচয়ের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারছেন না। বরং যেকোনো গল্প বা চলচ্চিত্রে তিনি নারী চরিত্রগুলোর সাথেই নিজেকে একাত্ম অনুভব করেন।
Read nextভোর ৫:৪৮-এর সেই অনাকাঙ্ক্ষিত মেসেজ: সাধারণ আড্ডা কীভাবে বদলে গেল চরম সামাজিক দুঃস্বপ্নে?
লেখালেখির প্রতি গভীর অনুরাগ রয়েছে এই তরুণের। কিন্তু তিনি লক্ষ্য করেছেন, যখনই কোনো নতুন চিত্রনাট্য বা গল্পের কাজ শুরু করেন, তাঁর হাত দিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেবল নারী চরিত্রই জন্ম নেয়। পুরুষ কোনো চরিত্রকে তিনি জীবন্ত করে তুলতে পারেন না। সম্প্রতি নিজের জীবনের এক তীব্র সংবেদনশীল ঘটনা নিয়ে তিনি একটি একাঙ্ক নাটক লিখেছেন। আশ্চর্যজনকভাবে, নিজের সেই একান্ত যন্ত্রণার গল্পেও কেন্দ্রীয় চরিত্রটি ছিল একজন নারী। তিনি নিজের সমস্ত সত্তা, বেদনা ও আবেগ সেই নারী চরিত্রটির মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছেন।
এখানেই শেষ নয়, নিজের শারীরিক অবয়ব নিয়েও এক অস্বস্তিকর দোলাচলে দিন কাটছে তাঁর। তিনি আয়নায় তাকালে নিজের পুরুষালী রূপকে ভালোবাসতে পারেন না। তাঁর সবসময় মনে হয়, নারী হলে তিনি আরও অনেক বেশি আকর্ষণীয় ও অর্থপূর্ণ হতেন। অথচ তিনি জন্মসূত্রে পাওয়া পুরুষ শরীরকে মেনে নিয়েছেন এবং সমাজে পুরুষ হিসেবেই জীবন কাটাচ্ছেন। তবুও সেই অবদমিত আকুলতা কিছুতেই মুছে যাচ্ছে না।
এই সংকটে সবচেয়ে বড় প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর নিজের পরিবার। তাঁর বাবা-মা ভীষণ রক্ষণশীল এবং রূপান্তরকামী বা এই ধরণের বিকল্প আত্মপরিচয়ের ধারণাকে ঘোর ঘৃণা করেন। পরিবারের এই চরম বৈরিতার কারণে তিনি নিজের অনুভূতির সত্যতা যাচাই করতেও ভয় পাচ্ছেন। তাঁর মনে প্রশ্ন জাগছে, তিনি কি সত্যিই ভিন্ন কোনো লিঙ্গসত্তার অধিকারী, নাকি পরিবারের ভয়ে মনের ভাব চেপে রেখে নিজেকে জোর করে সাধারণ প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন?
5x7 Area Rugs for Living Room
Safety And Non-Slip Rugs: Our area rug is made of the highest quality polyester fiber, and the non-slip backing helps the carpet stay in place and hold the floor firmly, protecting…
See it →
এই ঘটনাটি সামনে আসতেই তীব্র সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদল মানুষ তরুণের এই অনুভূতিকে গভীরভাবে সমর্থন জানাচ্ছেন। একজন মন্তব্যকারী উল্লেখ করেছেন, অন্য লিঙ্গে জন্মানোর তীব্র ইচ্ছা থাকাটাই মনের আসল সত্তার প্রকাশ। তাঁর মতে, নিজের শরীরকে ঘৃণা না করলেও মনে মনে নারী হতে চাওয়ার এই অনুভূতি স্পষ্ট করে দেয় যে তিনি অবচেতনভাবে নারী। পরিবারের ভয়ে ভীত না হয়ে তাঁর উচিত নিজেকে আবিষ্কার করা।
অন্যদিকে, অন্য একটি পক্ষ অত্যন্ত সতর্ক ও বাস্তববাদী অবস্থান নিয়েছেন। অপর একজন বিশ্লেষক যুক্তি দিয়েছেন যে, আঠারো বছর বয়সে আবেগ অনেক সময় ভুল দিকে প্রবাহিত হতে পারে। অনেক সমকামী বা সংবেদনশীল পুরুষ তরুণ বয়সে বিপরীত লিঙ্গের রূপ পাওয়ার স্বপ্ন দেখেন, যা পরবর্তীতে সময়ের সাথে থিতিয়ে আসে। তাই স্থায়ী কোনো শারীরিক বা মানসিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে পেশাদার থেরাপিস্টের সাহায্য নিয়ে অনুভূতিগুলোর শিকড় অনুসন্ধান করা উচিত।
পুরুষের খোলসে বন্দি এই অপূর্ণ সত্তার আর্তি কেবল একজন তরুণের নয়, বরং সমাজের হাজারো অগোচরে থাকা মানুষের দীর্ঘশ্বাসের প্রতীক। এই তীব্র মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত এবং পরিচয়হীনতার দোলাচল নিয়ে পডকাস্টের উপস্থাপকরা খোলামেলা বিতর্কে অংশ নিচ্ছেন ‘অগোচরে’-র বিশেষ পর্বে।