পাহাড়ি পথে লক না করা চলন্ত গাড়ি, ড্যাশবোর্ডে সাংকেতিক চিহ্ন: কোথায় মেলালেন তরুণ আইটি কর্মী?

পাহাড়ি পথে লক না করা চলন্ত গাড়ি, ড্যাশবোর্ডে সাংকেতিক চিহ্ন: কোথায় মেলালেন তরুণ আইটি কর্মী? · Avonetics
কার্শিয়াং-এর ঘন কুয়াশায় ঘেরা নীরব পাহাড়ি পথ। রাত তখন প্রায় বারোটা। রাস্তার ধারে অলস দাঁড়িয়ে আছে একটি কালো রঙের এসইউভি। গাড়ির ইঞ্জিন তখনও চালু, লাইট জ্বলছে, আর চালকের পাশের দরজাটি আধখোলা। কিন্তু গাড়ির ভেতরে বা আশপাশে কেউ নেই।
কলকাতা থেকে একা বেড়াতে আসা ২৯ বছর বয়সী সাইবার সিকিউরিটি এনালিস্ট রৌনক সেনগুপ্তের এই পরিত্যক্ত গাড়ি উদ্ধারের পর থেকেই দানা বাঁধছে গভীর রহস্য। গাড়ির ভেতরে রৌনকের মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন পাওয়া গেলেও তার কাজের ল্যাপটপ এবং ড্যাশবোর্ড ক্যামেরার এসডি কার্ডটি উধাও।
Read nextকুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি চালু, ড্রাইভার উধাও—২৬ বছর পর খোলার মুখে সোহম হত্যাকাণ্ডের রহস্য?
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য মেলে ড্যাশবোর্ডের ধুলোয়। ফরেনসিক দল অনুসন্ধান চালিয়ে দেখে, সেখানে হাতে লেখা রয়েছে একটি সাংকেতিক বার্তা—"১১:১১ - তারা জানে"। পরীক্ষার পর নিশ্চিত করা হয়েছে, ওই হাতের লেখাটি রৌনকেরই।
অনলাইন জগতে ইতিমধ্যেই এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা। এক অনুরাগী ফোরামে লিখেছেন, এটি নিশ্চিতভাবেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ফল। রৌনক ডার্ক ওয়েবের এমন কোনো গোপন তথ্য জেনে ফেলেছিলেন, যা তাকে বিপদে ফেলেছে। ল্যাপটপ নিখোঁজ হওয়ার সত্যতা সেই জল্পনাকেই উসকে দেয়।
Your brand, right here.Reach story-obsessed listeners in 45+ languages → advertise on Avoneticsঅন্যদিকে, অন্য একজন মন্তব্যে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, রৌনক নিজে থেকেই একটি নতুন জীবন শুরু করতে নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজিয়েছেন। মোবাইল ফোনটি লক না করে ফেলে রাখা এবং ড্যাশবোর্ডে লেখা বার্তাটি কেবল তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হতে পারে।
তবে স্থানীয় পুলিশের তল্লাশি অভিযান এখনো কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেনি। পাহাড়ি জঙ্গলে দিনের পর দিন র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স খুঁজেও কোনো শারীরিক প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেনি। ফোনের কল ডিটেইলস ঘাটলে দেখা যায়, নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে একটি অস্থায়ী নম্বর থেকে ফোন এসেছিল। সেই নম্বরের মালিকের পরিচয় এখনো অজানা।
রৌনক সেনগুপ্ত কি কোনো বড় চক্রান্তের শিকার হয়েছেন, নাকি তিনি ইচ্ছ করেই মেঘেদের রাজ্যে বিলীন হয়ে গেলেন? শেষ সূত্রের পডকাস্ট পর্বে এই কেসের ভেতরের সত্য ও নানা মনস্তাত্ত্বিক দিক উন্মোচন করছেন আমাদের সঞ্চালকরা।