কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি চালু, ড্রাইভার উধাও—২৬ বছর পর খোলার মুখে সোহম হত্যাকাণ্ডের রহস্য?

১৯৯৮ সালের এক শীতের রাতে ডাউহিল রোডে ইঞ্জিন চালু অবস্থায় উদ্ধার হয় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার সোহমের গাড়ি, পেছনে রেখে যান এক রহস্যময় অডিও টেপ আর কোডেড ডায়েরি।
Bengali

কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি চালু, ড্রাইভার উধাও—২৬ বছর পর খোলার মুখে সোহম হত্যাকাণ্ডের রহস্য? · Avonetics

🎧 Listen to this episode
Closes with the original song “কথা তো অনেক হলো”. · Plays on Spotify · Open on Spotify ↗
Sponsored
Volicci custom graphic tees, hoodies & die-cut stickers, a fresh original design every day. Learn more →

কার্সিয়াংয়ের কনকনে ঠান্ডায় ১৯৯৮ সালের ১৪ ডিসেম্বরের রাতে ঘন কুয়াশায় ঢেকে গিয়েছিল পুরো ডাউহিল রোড। দূর থেকে দেখলে মনে হচ্ছিল পাইন বনের ভেতর রহস্যের এক চাদর বিছানো রয়েছে। সেই নিঝুম পাহাড়ি রাস্তার এক পাশে দাঁড়িয়ে ছিল একটি সবুজ রঙের মারুতি ৮০০ গাড়ি। গাড়ির ইঞ্জিন তখনও সশব্দে ঘুরছিল, হেডলাইটের হলুদ আলো ঠিকরে পড়ছিল সামনের ঘন ধোঁয়াশায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, চালকের আসনে কেউ ছিল না। ফাঁকা গাড়ির স্টিয়ারিংয়ের পাশে পড়ে ছিল শুধুই একটি পাওয়ারের চশমা।

সেই রাতে রহস্যজনকভাবে বাতাসে মিলিয়ে গিয়েছিলেন ২৮ বছর বয়সী তরুণ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার সোহম বন্দ্যোপাধ্যায়। ডুয়ার্সে সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের তদারকি করতে এসে কার্সিয়াংয়ের এক রেস্ট হাউসে উঠেছিলেন তিনি। নিখোঁজ হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে তিনি তাঁর বান্ধবীকে ফোন করে ভয়ার্ত কণ্ঠে জানিয়েছিলেন, তাঁকে কেউ অনুসরণ করছে। আজ দীর্ঘ ২৬ বছর কেটে গেলেও সোহমের নিখোঁজ রহস্যের কোনো সুরাহা হয়নি।

Read nextপাহাড়ি মোড়ে চালু গাড়ি, গায়েব মেমোরি কার্ড: ৫ বছর ধরে রহস্য অর্পণ সেনগুপ্তের নিখোঁজ সংবাদে!

ঘটনার ঠিক তিন দিন পর শিলিগুড়ি থেকে সোহমের বান্ধবীর ঠিকানায় আসে একটি বেনামী ডাক। ভেতরের পার্সেলটি খুলতেই বেরিয়ে আসে একটি অডিও ক্যাসেট আর ৪২ পৃষ্ঠার চামড়ায় বাঁধানো ছোট ডায়েরি। ক্যাসেটের অডিওতে ব্যাকগ্রাউন্ডে কাঠ কাটার যন্ত্র ও ঘড়ির টিকটিক শব্দের সাথে সোহমের ফিসফিসানি শোনা যায়—"এরা যা তৈরি করছে তা সড়ক নয়... মানচিত্রের নীল দাগগুলো দেখো।" আর ডায়েরির এক পাতায় আঁকা ছিল তিনটি জটিল ত্রিভুজ ও রহস্যময় সংখ্যা "২৭-৮৯-১২"।

সম্প্রতি ইন্টারনেটের ক্রাইম ফোরামগুলোতে এই ঘটনা নিয়ে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এক দল গবেষক মনে করছেন, সোহম ভুলবশত পাহাড়ি অঞ্চলের একটি প্রভাবশালী কাঠ ও সোনা পাচার চক্রের রুট আবিষ্কার করে ফেলেছিলেন। তাঁদের মতে, স্থানীয় গ্যাংস্টারদের হাতেই তাঁর নির্মম পরিণতি ঘটেছিল এবং গাড়িটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হাইওয়েতে ফেলে রাখা হয়েছিল।

তবে এই যুক্তির ঘোর বিরোধিতা করেছেন অন্য একদল তদন্তকারী। তাঁদের মতে, এটি ছিল সোহমের নিজের সাজানো নাটক। শিলিগুড়ি থেকে পাঠানো পার্সেলের হাতের লেখা সোহমের নিজস্ব। নিখোঁজের ঠিক আগে ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তুলে তিনি হয়তো নতুন পরিচয় নিয়ে অন্য কোথাও জীবন শুরু করেছেন।

Your brand, right here.Reach story-obsessed listeners in 45+ languages → advertise on Avonetics

আরেকটি অংশের মতামত আরও ভয়াবহ। তাঁদের দাবি, পাহাড়ি একাকীত্ব ও চরম মানসিক চাপের কারণে সোহম তীব্র দৃষ্টিভ্রম বা হ্যালুসিনেশনে ভুগছিলেন। চশমা ফেলে অন্ধের মতো কুয়াশার রাতে বনের গভীরে হেঁটে গিয়ে তিনি কোনো খাদে পড়ে যান।

ডায়েরির সেই "২৭-৮৯-১২" কোডটির অর্থ আজও অমীমাংসিত। এটি কি কোনো গোপন ব্যাংকের তথ্য, নাকি ডাউহিলের জঙ্গলে পুঁতে রাখা কোনো কঙ্কালের স্থানাঙ্ক?

এই কেসের প্রতিটি মারপ্যাঁচ, অমীমাংসিত প্রমাণ আর অনলাইন ফোরামের রোমহর্ষক তর্ক নিয়ে পডকাস্টের টেবিলে মুখোমুখি আলোচনায় বসেছেন শেষ সূত্র-র দুই সঞ্চালক।

0:00
0:00
Link copied ✓