বিমান যাত্রায় ঝাঁকুনি: রোমাঞ্চ নাকি বিভীষিকা? এক অদ্ভুত বিতর্ক!

বিমান যাত্রায় ঝাঁকুনি: রোমাঞ্চ নাকি বিভীষিকা? এক অদ্ভুত বিতর্ক! · Avonetics
আপনার কি কখনো মনে হয়েছে যে বিমান যাত্রায় একটু ঝাঁকুনি না থাকলে সেটা ঠিক জমে না? বিশ্বাস না হলেও, এমন অদ্ভুত মতামত পোষণকারী মানুষের সংখ্যা কম নয়। অনলাইনে এই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। এক ব্যক্তি অকপটে বলেছেন, 'টার্বুলেন্স ছাড়া ফ্লাইট মানেই পানসে!' তার মতে, ৪০,০০০ ফুট উপরে উড়লে অভিজ্ঞতাটা তো আর মিনিভ্যান বা ট্রেনের মতো হতে পারে না। বরং, ফ্লাইটগুলো বেশ বিরক্তিকর আর অস্বস্তিকর হওয়ায় টার্বুলেন্স নাকি মনোযোগ ঘুরিয়ে দেয়, যা তিনি উপভোগ করেন।
এই বিতর্ক দ্রুতই দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। এক দল টার্বুলেন্সের পক্ষে, আরেক দল এর ঘোর বিরোধী।
Read nextসবচেয়ে বড় মিথ্যে: ২৫-এর মধ্যে জীবন গুছিয়ে ফেলতেই হবে?
টার্বুলেন্স প্রেমীরা যুক্তি দিচ্ছেন, এটি এক ধরনের 'বিনামূল্যে রোলার কোস্টার রাইড'। একজন মন্তব্যকারী তার প্রথম বিমান যাত্রার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন, যেখানে তীব্র টার্বুলেন্স হয়েছিল। তিনি জানালার ধার দিয়ে ঝোড়ো মেঘের দিকে তাকিয়ে যে রোমাঞ্চ অনুভব করেছিলেন, তা নাকি অবিস্মরণীয়। তার কাছে এটা দারুণ মজার ছিল। অন্য একজন বলেছেন, টার্বুলেন্সের একটা দিক ভালো, কারণ বিলাসবহুল গাড়িতেও যেমন খারাপ রাস্তা এড়ানো যায় না, তেমনি টার্বুলেন্সে ধনী-গরিব সবারই একই অভিজ্ঞতা হয়।
তবে এই অদ্ভুত মতামতের বিরুদ্ধেও জোরালো প্রতিবাদ এসেছে। বেশিরভাগ মানুষই বিমান যাত্রায় আরাম এবং শান্ত পরিবেশ আশা করেন। একজন বলেছেন, তিনি ফ্লাইটে একটি সিনেমা দেখতে চান, কোনো রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নয়। তার কাছে শান্ত এবং নির্বিঘ্ন তিন ঘণ্টা বিমান যাত্রাই কাম্য।
একজন পেশাদার পাইলটও তার অনুভূতি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে তিনি এই মতামতের সঙ্গে পুরোপুরি একমত না হলেও, 'অ্যাস ড্রপার' ধরনের ঝাঁকুনি তার পেটে অস্বস্তি তৈরি করে। তার মতে, রেকর্ড অনুযায়ী এটি বড় কোনো সমস্যা না হলেও ব্যক্তিগতভাবে তিনি এই অনুভূতি ঘৃণা করেন।
Your brand, right here.Reach story-obsessed listeners in 45+ languages → advertise on Avoneticsবিরোধীরা আরও ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। প্রায় দশ বছর আগে একজন যাত্রী এমন এক ফ্লাইটে ছিলেন যেখানে তীব্র টার্বুলেন্সে মানুষ আক্ষরিক অর্থেই চিৎকার করছিল এবং ঈশ্বরের নাম নিচ্ছিল। প্লেন অনেকক্ষণ ধরে সহিংসভাবে কাঁপছিল এবং একপর্যায়ে মনে হয়েছিল যেন সোজা নিচে পড়ে যাচ্ছে। এমন অভিজ্ঞতা পাওয়ার পর তিনি আর কোনো টার্বুলেন্স চান না।
অন্য একজন তার সামরিক বিমান C-130-এ চড়ার অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, যেখানে তারা একটি টাইফুনের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে প্লেন শত শত ফুট উপরে উঠে আবার ফ্রিফল করছিল। তিনি তার সহযাত্রী এক দম্পতির কথা বলেছেন, যাদের দু'মাসের শিশুটির শরীর থেকে তার ওজনের চেয়ে বেশি বমি বেরিয়ে আসছিল। এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর তার কাছে টার্বুলেন্সের যেকোনো মজা শেষ হয়ে গেছে।
এছাড়াও, অনেকেই টার্বুলেন্সে মৃত্যুভয়ে ভোগেন। একজন বলেছেন, তিনি রাস্তার গর্ত দেখতে পান কিন্তু আকাশে কীসের কারণে ঝাঁকুনি হচ্ছে, তা দেখতে পান না, যা তার ভয়কে আরও বাড়িয়ে তোলে। তীব্র টার্বুলেন্সের কারণে সিটবেল্ট সাইন অন থাকলে টয়লেটে যেতে না পারার বিরক্তি নিয়েও অনেকে কথা বলেছেন।
তাহলে, টার্বুলেন্স কি আসলেই বিমান যাত্রাকে আরও মজার করে তোলে, নাকি এটি শুধুই এক অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা? এই প্রশ্ন নিয়ে 'চৌরাস্তা' পডকাস্টের হোস্টরা এক বিস্তারিত আলোচনায় বসেছেন, যেখানে তারা এই বিতর্কের দুই দিক নিয়েই গভীরভাবে আলোকপাত করবেন।