কোনো প্রমাণ ছাড়াই কারাদণ্ড! ১৯৭২ সালের যে হত্যাকাণ্ড কাঁপিয়ে দিয়েছিল পুরো ফ্রান্সকে

কোনো প্রমাণ ছাড়াই কারাদণ্ড! ১৯৭২ সালের যে হত্যাকাণ্ড কাঁপিয়ে দিয়েছিল পুরো ফ্রান্সকে · Avonetics
১৯৭২ সালের এপ্রিল মাস। উত্তর ফ্রান্সের ছোট খনি শহর ব্রুয়ে-অঁ-আর্তোয়া তখন সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যে জর্জরিত। একপাশে সারিবদ্ধ দরিদ্র খনি শ্রমিকদের কাঁচা ঘরবাড়ি, অন্যপাশে ধনকুবের ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিলাসবহুল বাড়ি। এই দুই মেরুর ঠিক মাঝখানে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত ফাঁকা জমিতে পাওয়া যায় ১৫ বছর বয়সী কিশোরী ব্রিজিত দেভেভ্রের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ।
ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব পান বিচারক হেনরি প্যাসকেল। তদন্ত শুরুর কিছুদিন পরেই তিনি শহরের এক ধনী ও প্রভাবশালী নোটারি পিয়েরে ল্যরুয়াকে গ্রেপ্তার করেন। কিন্তু অবিশ্বাস্য বিষয় হলো, ল্যরুয়ার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট আলামত বা সাক্ষী ছিল না। বিচারক নিজেই সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন, কেবল ব্যক্তিগত অনুমান বা ধারণার ওপর ভিত্তি করে তিনি এই প্রভাবশালী ব্যক্তিকে জেলে পুরেছেন।
Read nextখামারির চরম বদলা: বিদ্যুৎ খুঁটি তুলে শুয়োর আনায় ডেভেলপারদের মাথায় হাত!
তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনা সমগ্র ফ্রান্সে এক বিশাল রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দেয়। কট্টরপন্থী বাম রাজনৈতিক পত্রিকাগুলো প্রচার করতে শুরু করে যে, কেবল এক বুর্জোয়া শ্রেণীর প্রতিনিধিই এমন জঘন্য কাজ করতে পারে। আদালতের বিচারের আগেই রাজপথে এবং সংবাদপত্রের পাতায় ল্যরুয়াকে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়। শহরটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং উগ্র জনতা ল্যরুয়ার নির্মম শাস্তির দাবি জানায়।
তবে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতেই মামলাটি দুর্বল হতে থাকে। অন্য এক অপরাধে ধৃত ব্যক্তি ভুয়া স্বীকারোক্তি দেয় এবং ঘটনার পুনর্নির্মাণে ল্যরুয়ার নির্দোষ হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল হয়ে ওঠে। দীর্ঘ তিন মাস বিনা বিচারে জেলে থাকার পর ১৯৭৪ সালে আদালত পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে ল্যরুয়ার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দেয়।
Your brand, right here.Reach story-obsessed listeners in 45+ languages → advertise on Avoneticsপরের বছর ব্রিজিতের এক ১৭ বছর বয়সী সহপাঠী হঠাৎ জাতীয় টিভিতে এসে ব্রিজিতকে হত্যার কথা স্বীকার করে। সে কীভাবে মেয়েটিকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় এবং পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে আইনি জটিলতা এবং তদন্তের ফাঁকফোকরের কারণে আদালত তাকেও খালাস দেয়। ১৯৮১ সালে তদন্ত চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় এবং ২০০৫ সালে তামাদির আইনের কারণে এই হত্যাকাণ্ডের দরজা আইনিভাবে চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
এক কমেন্টকারী প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, এই মামলাটি প্রমাণ করে যে আবেগ ও মিডিয়া ট্রায়াল কীভাবে একটি নিরপেক্ষ তদন্তকে ধ্বংস করে দিতে পারে। অন্য এক বিশ্লেষক মনে করেন, সহপাঠীরDetailed স্বীকারোক্তিটিই ছিল আসল ক্লু, যা বিচার ব্যবস্থার জটিলতায় হারিয়ে গেছে।
এই বিতর্কিত ইতিহাস ও গণমাধ্যমের বিচারের ভয়ঙ্কর আখ্যান নিয়ে 'কালের ক্যানভাস' পডকাস্টের নতুন পর্বে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন উপস্থাপকরা।