বোর্ডরুমে আতঙ্ক! কথা বলতে গেলেই গলা শুকিয়ে যায়, মাথা ঘোরে – কী করবেন এই পরামর্শক?

বোর্ডরুমে আতঙ্ক! কথা বলতে গেলেই গলা শুকিয়ে যায়, মাথা ঘোরে – কী করবেন এই পরামর্শক? · Avonetics
12x56 High Power Monocular Telescope
12X magnification and 6.5° wide field of view monocular, which provides a more comfortable and larger view, clearer details, adding up to incomparable watching experience. Perfect…
See it →
একজন সফল পরামর্শক হিসেবে আমার জীবনটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। প্রতি সপ্তাহে আমাকে বোর্ডরুমে অনেক মানুষের সামনে কথা বলতে হয়। কিন্তু গত চার বছর ধরে দুটি সমস্যা আমাকে রীতিমতো তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে, যা থেকে মুক্তি পেতে আমি যে কোনো মূল্য দিতে রাজি।
প্রথম সমস্যাটি হলো, জনসম্মুখে কথা বলার সময় অস্বাভাবিক ঢোক গেলার প্রবণতা। আমি যখন কথা বলি, তখন অনুভব করি যে এই প্রবণতা ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। এক পর্যায়ে আমার শরীর নিজেই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং আমি কথা বলার মাঝখানে ঢোক গিলি। এটা আমার শ্রোতাদের কাছে খুবই অদ্ভুত লাগে। শুধুমাত্র কথা বলা শেষ করার পরেই এই সমস্যাটা কমে। আমার সারা জীবন ধরে এই সমস্যাটা আমাকে ভুগিয়েছে এবং আমি সত্যিই চাই এটা বন্ধ হোক।
Read nextমানসিক উৎকণ্ঠা, বিষণ্ণতার ওষুধ ও ২৩ বছরের এক যুবকের অলীক স্বপ্নের লড়াই
দ্বিতীয় সমস্যাটি আরও ভয়াবহ – মাথা ঘোরার অনুভূতি। একবার যখন আমি এটা অনুভব করি, তখন এর তীব্রতা বাড়তে থাকে কারণ আমি এর সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠি। এই অনুভূতি শুরু হলে, পরিস্থিতি পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত আমি এটা থামাতে পারি না। আমি প্রায়ই আশঙ্কা করি যে কোনো এক সময়ে আমি হয়তো জ্ঞান হারিয়ে ফেলব।
প্রথম আধা ঘণ্টা বা তার বেশি সময়টা আমার জন্য দুঃস্বপ্নের মতো। এরপর আমি ধাতস্থ হই এবং সব ঠিকঠাক চলে। কিন্তু এই প্রথমিক আতঙ্কটা আমার কাজের মান এবং আত্মবিশ্বাসের উপর বড় প্রভাব ফেলে।
আমার এই সমস্যাগুলো নিয়ে অনেকেই নানা মন্তব্য করেছেন। একজন মন্তব্যকারী বলেছেন, "এটা সম্ভবত পারফরম্যান্স অ্যাংজাইটি। যখন আপনি চাপে থাকেন, তখন আপনার শরীর অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায়। মাইন্ডফুলনেস এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন সাহায্য করতে পারে।" আরেকজন যুক্তি দিয়েছেন, "এটা শুধুমাত্র আপনার মস্তিষ্কের একটি কৌশল। আপনি যত বেশি উদ্বিগ্ন হবেন, শরীর তত বেশি প্রতিক্রিয়া দেখাবে। এটাকে পাত্তা না দিয়ে এগিয়ে যান।" এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, এটি মূলত মানসিক এবং এর মোকাবিলায় মানসিক কৌশল ও থেরাপি অপরিহার্য।
তবে, অন্য একটি মতও উঠে এসেছে। একজন পরামর্শ দিয়েছেন, "আপনি কি ডাক্তার দেখিয়েছেন? গিলতে সমস্যা এবং মাথা ঘোরার পেছনে অন্য কোনো শারীরিক কারণ থাকতে পারে, যেমন গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ বা নিউরোলজিক্যাল সমস্যা।" আরেকজন মন্তব্যকারী যুক্তি দিয়েছেন, "অনেক সময় উদ্বেগ শারীরিক লক্ষণগুলোকে বাড়িয়ে তোলে, কিন্তু মূল কারণটা শারীরিক হতে পারে। একজন ইএনটি বিশেষজ্ঞ বা নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।" এই মতবাদ অনুযায়ী, শুধুমাত্র মানসিক কারণ বলে উড়িয়ে না দিয়ে শারীরিক কারণও খতিয়ে দেখা উচিত।
এই সমস্যাগুলো আমার পেশাগত জীবনে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। আমি সত্যিই এর থেকে মুক্তি পেতে চাই।
দ্বিতীয় সমস্যা: "আমি স্বাভাবিক হতে চাই"
Telescopes
The children's telescope adopts a 70mm objective lens, 400mm focal length, and high transmittance fully coated glass optical element, which can produce clear and sharp images. It i…
See it →
আমার জীবন সামাজিক উদ্বেগ দিয়ে ভরা। থেরাপি বা ঔষধ কোনোটাই আমাকে সাহায্য করতে পারেনি। হাইস্কুলে আমার কোনো বন্ধু ছিল না কারণ আমি মানুষের সাথে কথা বলতে পারতাম না। গ্র্যাজুয়েশনের পর ফাস্ট-ফুড রেস্তোরাঁয় ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করি, উদ্দেশ্য ছিল নিজেকে জোর করে মানুষের সাথে কথা বলতে বাধ্য করা, যেন একটা নতুন শুরু। এটা আমাকে কিছুটা সাহায্য করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি নিজেকে আরও বেশি বিব্রত করতে শুরু করি এবং তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে চাকরি ছেড়ে দিই।
গতকাল একটি কলেজের ওরিয়েন্টেশনে গিয়েছিলাম। মানুষের সাথে কথা বলার চেষ্টা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারলাম না। মানুষ ধীরে ধীরে আমাকে উপেক্ষা করতে শুরু করল। আমি এই ধরনের জীবন থেকে ক্লান্ত। আমি আর সেই অদ্ভুত, চুপচাপ মেয়েটা হতে চাই না। আমি বন্ধুদের সাথে কথা বলতে এবং আড্ডা দিতে চাই। আমি নিজেকে ঘৃণা করি এমন হওয়ার জন্য।
এই বিষয়েও নানা মতামত এসেছে। একজন মন্তব্যকারী বলেছেন, "এটি একটি দীর্ঘ পথ, এবং থেরাপি বা ঔষধ ব্যর্থ হলেও হাল ছাড়া উচিত নয়। ভিন্ন থেরাপিস্ট বা ভিন্ন ধরণের থেরাপি চেষ্টা করা দরকার।" অন্য একজন যুক্তি দিয়েছেন, "সামাজিক পরিস্থিতিতে নিজেকে ছোট ছোট ধাপে উন্মোচন করা উচিত, যেমন প্রথমে শুধু হাসা, তারপর 'হাই' বলা, তারপর ছোট কথোপকথন।" এই মতবাদীরা মনে করেন যে, এটি একটি চ্যালেঞ্জিং অবস্থা এবং এর জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং সঠিক গাইডেন্স প্রয়োজন।
অন্যদিকে, অনেকে বলেছেন, "নিজের প্রতি এত কঠোর হওয়া ঠিক নয়। সবারই নিজের গতি আছে। নিজের মতো করে কাজ করা উচিত এবং ছোট ছোট জয়কে উদযাপন করা উচিত।" আরেকজন মন্তব্য করেছেন, "নিজের 'স্বাভাবিক' হওয়ার সংজ্ঞা পরিবর্তন করা উচিত। সবারই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য থাকে। নিজেকে ভালোবাসা এবং নিজের সীমাবদ্ধতাগুলো মেনে নেওয়া জরুরি।" এই শিবির বিশ্বাস করে যে, নিজেকে চাপ না দিয়ে বরং আত্ম-সহানুভূতি এবং আত্ম-গ্রহণযোগ্যতার উপর জোর দেওয়া উচিত।
এই দুটি গল্পই আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের গভীর এবং জটিল দিকগুলো তুলে ধরে। আমাদের শো, 'মনোগহন'-এ এই বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে।
মনোগহন পডকাস্টের পরবর্তী পর্বে এই দুটি গল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।