গিয়ারবক্স বদলানোর বিল বাঁচল, তারপর ৩৪ সেকেন্ডেই শেষ হয়ে গেল গাড়িটা

ছেঁড়া একটা ক্যাবল সারিয়ে হাজার হাজার টাকা বাঁচানো গাড়িটা গ্যারেজের দরজা পেরোনোর আগেই দুর্ঘটনায় পড়ল — আর ইন্টারনেট ভাগ হয়ে গেল দুই শিবিরে।
Bengali

গিয়ারবক্স বদলানোর বিল বাঁচল, তারপর ৩৪ সেকেন্ডেই শেষ হয়ে গেল গাড়িটা · Avonetics

🎧 Podcast episode
Coming soon — আকাশ & অনন্যা are taking this one into the studio.
Sponsored
Volicci custom graphic tees, hoodies & die-cut stickers, a fresh original design every day. Learn more →

গল্পটার শুরু একেবারে সুখী গল্পের মতো।

এক গাড়িমালিক ওয়ার্কশপে আসেন এই অভিযোগ নিয়ে যে তাঁর গাড়ি ফার্স্ট গিয়ারে আটকে গেছে। লিভার নড়ে, কিন্তু গাড়ি অন্য কোনো গিয়ারে যায় না।

Read nextডিলারের চড়া বিল নাকি আফটারমার্কেট অ্যান্ড্রয়েড? লেক্সাস GX460-এর ইনফোটেইনমেন্ট জ্যামে বিপাকে মালিক!

তাঁর হাতে ছিল আরেকটি ওয়ার্কশপের রায় — পুরো ট্রান্সমিশন বদলাতে হবে। নতুন গিয়ারবক্স। যে খরচে অনেক পরিবারের গাড়ি রাখারই ইচ্ছে মরে যায়।

কিন্তু গাড়িটা লিফটে তোলার পর ছবিটা বদলে যায়। ভেতরে গিয়ারবক্সের কিছুই ভাঙেনি। ভেঙেছিল শিফট ক্যাবল — হাতে ধরার মতো একটা তার, যেটা গিয়ার লিভারের নির্দেশ গিয়ারবক্স পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।

ক্যাবল বদলানো হয়। প্রতিটি গিয়ার পরীক্ষা করা হয়। গাড়ি একদম ঠিক। মালিককে জানানো হয় — গিয়ারবক্স লাগছে না।

এটুকুই হতে পারত গল্পের শেষ। হলো না।

মালিক নিজে গাড়ি নিতে আসেননি। তিনি তাঁর বোনকে পাঠান।

আর এখানেই সব ওলটপালট।

ক্যামেরার ফুটেজে প্রথম দৃশ্যেই ধোঁয়া। ইঞ্জিনের নয় — ক্লাচের। যিনি গাড়ি নিতে এসেছেন, তিনি ম্যানুয়াল গিয়ারে অভ্যস্ত নন। গাড়ি নড়াতে না পেরে তিনি বারবার রেভ তুলছেন, ক্লাচ ছাড়ছেন, আবার রেভ তুলছেন।

শেষ পর্যন্ত গাড়ি চলতে শুরু করে। কিন্তু কয়েক মুহূর্ত পরেই ট্র্যাফিকের কারণে তাঁকে থামতে হয় — এবং সেটা ঢালু রাস্তায়।

ঢালে দাঁড়ানো গাড়ি, নতুন হাত, ইতিমধ্যেই গরম হয়ে যাওয়া ক্লাচ। ফুটেজে দেখা যায়, বেরোনোর জন্য তিনি আবার রেভ তুলছেন।

এরপর, ৩৪ সেকেন্ডের মাথায়, যা হওয়ার হয়ে যায়। যে গাড়িটা কয়েক ঘণ্টা আগেই মেরামত হয়ে রাস্তায় ফিরেছিল, সেটা শপের দরজার নাগালের মধ্যেই দুর্ঘটনায় পড়ে।

একজন মেকানিকের ভাষায় — নিজের হাতে সারানো একটা গাড়ির এমন পরিণতি চোখের সামনে দেখাটা রীতিমতো অবিশ্বাস্য।

ফুটেজটা ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিক্রিয়া ভাগ হয়ে যায় দুই ভাগে।

একদল বলছেন, এটা নিছকই খারাপ কপাল। এক মন্তব্যকারী লিখেছেন, ঠিক ওই মুহূর্তে রাস্তায় জাদুর মতো একটা ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছিল, একটাও গাড়ি ছিল না — তারপরও এমন ঘটল। আরেকজন শুকনো রসিকতায় বলেছেন, গাড়ি তো বহু বছর ধরেই শপ থেকে বেরিয়ে সোজা ট্র্যাফিকের মধ্যে ঢুকে পড়ছে, এটা নতুন কিছু নয়।

এই শিবিরের যুক্তি সরল: ঢাল, ট্র্যাফিক, অচেনা গাড়ি আর অনভ্যস্ত হাত — এই চারটে একসঙ্গে পড়লে দুর্ঘটনা প্রায় অনিবার্য, এবং সেখানে কাউকে খলনায়ক বানানোর কিছু নেই।

অন্য দল অনেক বেশি কঠোর। একজন মন্তব্যকারী লিখেছেন, গাড়িটা ভাঙল বলে খারাপ লাগছে, তবে যেভাবে চালানো হচ্ছিল তাতে ওটা খুব শিগগিরই ক্লাচ বদলানোর জন্য ফিরে আসত।

Your brand, right here.Reach story-obsessed listeners in 45+ languages → advertise on Avonetics

অর্থাৎ ক্ষতিটা দুর্ঘটনার আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিল — প্রথম সেকেন্ডের ওই ধোঁয়াতেই।

আরেকজন পরিণতিটাকে এতটাই অনুমেয় ধরে নিয়েছেন যে সরাসরি জিজ্ঞেস করেছেন, গাড়িটার দাম কত, বিক্রি হবে কি না।

এই শিবিরের মূল প্রশ্নটাও তীক্ষ্ণ: যিনি ম্যানুয়াল গিয়ার চালাতে জানেন না, তাঁকে ঢালু রাস্তায় অচেনা একটা গাড়ি আনতে পাঠানো হলো কেন? আর চাবি হাতে দেওয়ার আগে ওয়ার্কশপেরই বা দেখে নেওয়া উচিত ছিল কি না, মানুষটি গাড়িটা আদৌ চালাতে পারেন কি না।

একটা ছেঁড়া ক্যাবল যে বিপুল খরচ বাঁচিয়েছিল, ৩৪ সেকেন্ডের একটা ভুল তার চেয়ে অনেক বড় বিল ধরিয়ে দিল।

আর গল্পের দ্বিতীয় অংশে দৃশ্য বদলে যায় শহুরে ওয়ার্কশপ থেকে গ্রামের কাঁচা রাস্তায় — কিন্তু বিষয়টা একই থাকে: থামতে না পারা।

এক গ্রামীণ বাসিন্দা জানাচ্ছেন, তাঁর বাড়ির এক দিকে চারশো মিটার দূরে রাস্তা নব্বই ডিগ্রি বেঁকে গেছে, আর উল্টো দিকে তিনশো মিটার দূরে রয়েছে খাড়া বাঁকা ঢাল, যেখানে গাড়ি পিছলে নামার ঘটনা নিয়মিত।

তবু গ্র্যাভেল ট্রাক, কাঠের ট্রাক আর আস্ত সেমি ট্রাক ওই সরু কাঁচা রাস্তায় ছুটছে ঘণ্টায় আশি থেকে একশো দশ কিলোমিটারে।

তাঁর হাতে বিকল্প প্রায় নেই। গতিসীমা কাগজে-কলমে আশি, কমানোর সম্ভাবনা নেই এবং কমালেও কেউ মানবে না। গ্রামে পুলিশি নজরদারির প্রশ্নই ওঠে না। রাস্তার ছবি তোলে এমন ব্যক্তিগত ক্যামেরা সেখানে বেআইনি, স্পিড ব্রেকার বা রাস্তায় যেকোনো বাধা বসানোও বেআইনি।

অথচ ওই ছোট্ট পাড়ায় পোষা প্রাণী আছে, বন্যপ্রাণী আছে, মাঝেমধ্যে বাচ্চারাও থাকে।

তাঁর আপত্তি প্রাইভেট কারে নয়, ট্রাকে। তাঁর ভাষায়, ট্রাক রাস্তা ভেঙে দেয় এবং ওদের থামার কার্যত কোনো সুযোগ থাকে না — বিশেষ করে যেসব চালক জানেন না সামনে ধারালো বাঁক আছে। ঝুঁকি শুধু রাস্তার নয়; ট্রাক বাড়িতে বা রেললাইনে গিয়ে পড়তে পারে।

সমস্যাটা পুরোনো নয়। সম্প্রতি এলাকার শিল্প বড় হওয়ার পর থেকেই ট্রাকের এই স্রোত শুরু হয়েছে।

দুটো গল্পেই প্রশ্নটা একই জায়গায় এসে দাঁড়ায় — নিয়ন্ত্রণহীন একটা যান যখন কারও দিকে ছুটে আসে, দায়টা তখন কার: যে চালাচ্ছে, যে চাবি দিয়েছে, নাকি যে ব্যবস্থা এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে?

এই দুই গল্প নিয়েই তুমুল তর্কে মেতেছেন আমাদের শোয়ের দুই হোস্ট — পুরো বিতর্ক আর তাঁদের চূড়ান্ত রায় শুনুন পডকাস্টের এই পর্বে।

0:00
0:00
Link copied ✓