‘আমি কি নিষ্ঠুর, নাকি শুধু চুপচাপ?’ — অফিসে নিঃশব্দ হয়ে যাওয়া এক ইন্টার্নের স্বীকারোক্তি

‘আমি কি নিষ্ঠুর, নাকি শুধু চুপচাপ?’ — অফিসে নিঃশব্দ হয়ে যাওয়া এক ইন্টার্নের স্বীকারোক্তি · Avonetics
Puxicu Slim Case for iPhone 14
Only for iPhone 14 Pro Case, It's only designed for iPhone 14 Pro (6.1"), Available in a vibrant palette of colors, for iPhone cover case lets you express your unique style, Discov…
See it →
অফিসের প্রথম সপ্তাহটা তিনি ভালোই সামলেছিলেন।
হাসিমুখ, ভদ্র প্রশ্ন, সোমবার সকালে সহকর্মীদের কাছে জানতে চাওয়া—ছুটির দিনগুলো কেমন কাটল। ঠিক যেভাবে সবাই করে।
Read nextমানসিক উৎকণ্ঠা, বিষণ্ণতার ওষুধ ও ২৩ বছরের এক যুবকের অলীক স্বপ্নের লড়াই
কিন্তু সেই হাসিটা তাঁর ভেতর থেকে আসছিল না। প্রতিটা বাক্য তাঁকে বানাতে হচ্ছিল, বয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছিল। সপ্তাহ যত গড়াল, ভারটা তত বাড়ল।
একদিন তিনি চেষ্টাটা ছেড়ে দিলেন। আর ছেড়ে দেওয়ার পর ফিরে গেলেন সেই চেনা জায়গায়—চুপচাপ, নিজের ভেতর গুটিয়ে থাকা একজন, জীবনের প্রতিটা জায়গায় তিনি যেমন ছিলেন।
এই ইন্টার্নশিপ নিয়ে তাঁর প্রশ্নটা অবশ্য কাজ নিয়ে নয়। প্রশ্নটা নিজেকে নিয়ে: আমার আসল সমস্যাটা কী?
কারণ কিছু কিছু দিন, তিনি লিখছেন, কথা বলতে তাঁর একটুও কষ্ট হয় না—কোনো ধাক্কা নেই, কোনো ভয় নেই। আবার অন্য দিনে সামান্য সম্ভাষণও গলার কাছে আটকে থাকে।
আর স্মল টক? স্মল টক তিনি ঘৃণা করেন।
‘কেন আমাকে জিজ্ঞেস করতে হবে অফিসের বাইরে কে কী করে?’—তাঁর ভাষায়, তিনি সত্যিই জানতে চান না। আর এই স্বীকারোক্তিটাই তাঁকে ভয় পাইয়ে দেয়।
‘এটা কি নিষ্ঠুরতা?’ তিনি নিজেকে নিষ্ঠুর ভাবেন না। কিন্তু যদি সত্যিই কিছু যায়-আসে না তাঁর? যত্ন না থাকলে যত্নের অভিনয় তিনি করতে পারেন না—আর সেই অভিনয়টাই, তাঁর মতে, পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ।
এখানেই গল্পটা মোচড় খায়।
কারণ তিনি মানুষের সঙ্গে কথা বলতে চান। ভীষণ চান। মাঝে মাঝে দু-তিন মিনিটের ছোট্ট একটা আলাপ হয়, আর হঠাৎ ভেতরটা জ্বলে ওঠে। তাঁর কথায়—এই জন্যই মানুষ সামাজিক প্রাণী। শরীরে বিদ্যুৎ খেলে যায়, তিনি হালকা হয়ে যান, খুশি হয়ে যান।
অথচ দিনের শেষে হিসেব মেলালে দেখা যায়, পরিবার আর তাঁর প্রেমিক ছাড়া সারা দিনে আর কারও সঙ্গে তাঁর কথাই হয়নি। এই জন্যই, তিনি বলছেন, তিনি একা।
তাহলে তিনি কী—ইন্ট্রোভার্ট, নাকি সোশ্যাল অ্যাংজাইটিতে ভুগছেন, নাকি নিছক উদাসীন?
একজন মন্তব্যকারী উত্তরটা এক লাইনে সেরে দিয়েছেন: আপনি ইন্ট্রোভার্ট। সামাজিকতার পর নিজেকে ফিরে পেতে যে সময়টা লাগে, ইন্ট্রোভার্শনের সংজ্ঞাই তো সেটা।
কিন্তু সবাই এত সহজে মানছেন না।
একদল বলছেন, লেবেলটা স্বস্তির—আর স্বস্তিই এর সমস্যা। তাঁদের যুক্তি, গল্পটার ভেতরেই উত্তর আছে: তিনি নিজেই লিখেছেন কথা বলতে গেলে তাঁর উৎকণ্ঠা হয়, অস্বস্তি লাগে, কী বলবেন বুঝতে পারেন না। ‘ইন্ট্রোভার্ট নীরবতা বেছে নেয়,’ একজন যুক্তি দিয়েছেন, ‘উৎকণ্ঠা নীরবতা চাপিয়ে দেয়।’
আরেকজন আঙুল রেখেছেন সেই বাঁকটাতে—শুরুতে উষ্ণতা, তারপর ক্ষয়, তারপর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার। তাঁর মতে, ওটা ব্যাটারি ফুরিয়ে যাওয়া নয়, ওটা এড়িয়ে যাওয়ার চেনা ঢাল।
ViscoSoft Twin XL Mattress
The Leading Name in Mattress Toppers: Viscosoft is consistently recognized for the highest quality memory foam and innovative fabrics, offering luxurious sleep solutions for every…
See it →
উল্টো দিকে যাঁরা ইন্ট্রোভার্শনের পক্ষে, তাঁদের বক্তব্যও শক্ত। একজন বলেছেন, অগভীর আচারে ক্লান্তি লাগা মানে মানুষকে অপছন্দ করা নয়; যে মানুষ যত্নের অভিনয় করতে পারে না, সে নিষ্ঠুর নয়, সে সৎ। আর কেউ কেউ মনে করিয়ে দিয়েছেন, গভীর সংযোগের জন্য তৃষ্ণা থাকা আর ইন্ট্রোভার্ট হওয়া পরস্পরবিরোধী নয়—কম মানুষ, কিন্তু গভীরভাবে।
একজন বরং প্রশ্নটাই উল্টে দিয়েছেন: ‘আমি কি নিষ্ঠুর?’—এই আত্ম-জেরাটাই তো প্রমাণ, তিনি উদাসীন নন। উদাসীন মানুষ নিজেকে এই প্রশ্ন করে না।
এবং তারপর আসে দ্বিতীয় গল্পটা—যেখানে এই একই না-পারা আর অস্বস্তির পর্যায়ে থাকে না।
অন্য একজন লিখছেন, সোশ্যাল অ্যাংজাইটির সঙ্গে তাঁর আরেকটা ভয় আছে: অসুস্থ হয়ে পড়ার তীব্র আতঙ্ক। এখন তিনি খেতে পারছেন না, ঘুমাতে পারছেন না, সকালে উঠতে পারছেন না, সারাক্ষণ ভয়ানকভাবে গা গোলাচ্ছে।
তাঁর ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট দরকার। কিন্তু সেই কাজটা করতে গিয়ে তিনি আতঙ্কে জমে যাচ্ছেন।
চেম্বারের কোনো ইমেইল ঠিকানা নেই। স্বাস্থ্যসেবার ওয়েবসাইট দিয়ে বুক করা যাচ্ছে না, কারণ ভেরিফিকেশন কিছুতেই হচ্ছে না। ফলে হাতে পড়ে থাকে একটাই রাস্তা—ফোন করা।
আর অ্যাপয়েন্টমেন্টটাও হবে ফোনেই, কারণ তিনি ঘর থেকে বেরোতে পারেন না।
টকিং থেরাপির রেফারেলটাও ঝুলে আছে। ফলো-আপ করা হয়নি, কারণ তার জন্যও কল করতে হতো।
‘এই উৎকণ্ঠা আমার জীবনটা শুষে নিচ্ছে,’ তিনি লিখছেন। প্রতিটা দিন একা পার করা অসম্ভব হয়ে উঠছে। তিনি পরামর্শ চাইছেন। তিনি আটকে গেছেন।
দুটো গল্প পাশাপাশি রাখলে একটা অস্বস্তিকর প্রশ্ন তৈরি হয়: প্রথমজনের ‘আমি শুধু চুপচাপ মানুষ’ আর দ্বিতীয়জনের ‘আমি ফোনটা তুলতে পারছি না’—এ দুটোর মাঝখানে দূরত্বটা কতটা?
একজন মন্তব্যকারীর ভাষায়, নামটা জরুরি এই জন্যই—ইন্ট্রোভার্শনের চিকিৎসা লাগে না, উৎকণ্ঠার লাগে।
আবার আরেকজন পাল্টা মনে করিয়ে দিয়েছেন, দ্বিতীয় গল্পে দোষটা পুরোপুরি মানুষটির নয়: যে ব্যবস্থা ইমেইল রাখে না, যার ভেরিফিকেশন ভাঙা, সেটি ঠিক সেই মানুষের কাছেই ফোনকল দাবি করছে, যার পক্ষে ফোন করাই সবচেয়ে কঠিন।
এই দুই গল্প, দুই শিবির আর তাদের তুমুল তর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসছেন ‘মনোগহন’-এর দুই হোস্ট—শুনুন এই পর্বে।